‘সব সত্যি জেনে গেছি, আমাকে মে'রে ফেলবে’

বরিশাল জে'লা ডিবি পু'লিশের কনস্টেবল মাইনুল ইস'লামের ‘নি'র্যা'তনে’ নি'হত বিসিএস পরীক্ষার্থী সাদিয়া সাথীর লেখা একটি ডায়েরি পাওয়া গেছে। ডায়েরিতে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর বিভিন্ন তথ্য। তাকে মে'রে ফেলা হবে এমন উদ্বেগের কথাও লিখেছিলেন সাদিয়া।

মে'য়েকে হ'ত্যার অ'ভিযোগ এনে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থা'নায় মা'মলা করলেও এখনো এজাহার হিসেবে নেয়নি বলে জানিয়েছেন সাদিয়ার বাবা বাবা সিরাজুল ইস'লাম। তিনি বলেন, পু'লিশ সদস্যের বি'রুদ্ধে হ'ত্যার অ'ভিযোগ আনায় বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে থা'না-পু'লিশ।কোতোয়ালি থা'নার ভা'রপ্রাপ্ত কর্মক'র্তা (ওসি) আজিমুল করিম বলেন, ময়নাত'দন্তের প্রতিবেদন এলেই সাদিয়া হ'ত্যার কারণ উদঘাটন হবে। তখন অ'ভিযু'ক্তের প্রমাণ পেলে তার বি'রুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া বর্তমানে একটি অ'পমৃ'ত্যু মা'মলা করা হয়েছে।ত'দন্ত কর্মক'র্তারা মনে করেন, মাইনুলের বি'রুদ্ধে নি'র্যা'তনে হ'ত্যার

অ'ভিযোগ তোলা ঘটনাটিকে আরো জটিল করেছে। সাদিয়ার আত্মহ'ত্যার পেছনে অ'ভিযু'ক্ত মাইনুলেরপ্র'রোচনা থাকতে পারে। তবে এখন কিছুই নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে অধিক গুরুত্ব দিয়ে ত'দন্ত চলছে। সাদিয়ার লেখা ৯টি চিঠিই ছিল ডিবি পু'লিশ সদস্য মাইনুল ইস'লামকে নিয়ে।সাদিয়ার বড় বোনের স্বামী কেদারপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নূরে আলম ব্যাপারী বলেন, সাথীকে প্রথমে পারিবারিকভাবে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তার প্রথম স্বামী ছিলেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মী। সাদিয়া চাকরি করতে ইচ্ছা পোষণ করায় প্রথম স্বামীর দ্বিমত থাকায় সেই সংসার ভেঙে যায়।সাদিয়া সরকারি ব্রজমোহন কলেজে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ছা'ত্রী ছিলেন।

ওই কলেজ থেকে ইংরেজিতে লেখাপড়া শেষ করে বিসিএস ক্যাডার হতে চেয়েছিলেন। তার জীবনে একটাই ইচ্ছা ছিল যত বাধাই আসুক বড় সরকারি চাকরি করতে হবে। এজন্য বিসিএস কোচিং করতেন এবং বাসায় প্রচুর লেখাপড়া করতেন।কোচিংয়ের শিক্ষকরা আমাকে বলেছে, লেখাপড়ায় আম'রা ধরে নিয়েছি ৪৪তম বিসিএসে বরিশালে একজন যদি চান্স পায় সেটি হবে সাদিয়া সাথী। কিন্তু তা তো আর হলো না।সাদিয়া সাথির বাবা সিরাজুল ইস'লাম বলেন, আমা'র মে'য়ের সঙ্গে সম্পূর্ণ প্রতারণা করেছে। মাইনুল নিজে কনস্টেবল হলেও আমাদের কাছে এসআই পরিচয় দিতেন। সাদিয়ার কাছেও সেই পরিচয় দিয়েছেন। এছাড়া তার আরেকটি সংসার রয়েছে। সেই ঘরে রয়েছে

দুটি সন্তান। এসব তথ্য আম'রা জেনেছি সাদিয়ার মৃ'ত্যুর কয়েকদিন আগে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বেশ দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছিল।সাদিয়ার লেখা ডায়েরিতেও বার বার উল্লেখ করা হয়েছে ডিবির কনস্টেবল মাইনুলের প্রতারণার কথা। উল্লেখ আছে মাইনুলের জন্য ভালোবাসার হাহাকার। একটু মানসিক শান্তিও আশ্রয়ের আকুতি।২২ ফেব্রয়ারি রাতে মাইনুলকে পাখি সম্মোধন করে সাদিয়া লিখেছেন, ‘নিজেকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা আমা'র জানা নেই। তবে একটা কথা মনকে বোঝাই, এই পৃথিবীতে অনেকের অনেক অঙ্গ-প্রতঙ্গ নেই আর আমা'র নেই তুমি। আজ সারাদিন তোমাকে মিস করেছি। তাই আগামীকাল থেকে রোজা রাখব।’তারিখ না লিখলেও আরেক পাতায় কালো কালিতে লিখেছেন, ‘আমাকে পারতেই হবে। সমস্ত বাধা বিপত্তি পেরিয়ে সফলতার দ্বারপ্রান্তে যাওয়ার জন্য আমি রেডি। তুমি আমা'র পেছন থেকে পালিয়ে যেও না। আমি যেন হাত বাড়ালে তোমাকে পাই মাইনুল। দিন শেষে তোমা'র কাছে একটু ভালো আচরণ ও ভালোবাসা, সম্মান চাই। চাকরিটা হয়ে গেলে আর তোমা'র কাছে টাকার জন্য হাত পাতব না।’২০২১ সালের ৫ ডিসেম্বর লিখেছেন, ‘আজ আমি দুর্বল পরিবারের গাফিলতির কারণে। আমি খা'রাপ, জীবনে কাউকেই পাগলের মতো ভালোবেসেও ধরে রাখতে পারিনি বলে। আমি খা'রাপ, একটি সন্তান পৃথিবীর আলো দেখেছে বলে। আমি খা'রাপ তোমা'র হাজারটা মিথ্যা কথার ওপর ভরসা করি বলে।’তারিখ ছাড়া আরেকটি পাতায় লিখেছেন, ‘জীবনে কিছুই পাইনি। বারবার পুরুষ লোকের প্রতারণার কাছে হেরে গেছি। নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবেসেছিলাম তোমাকে। একটু আশ্রয় চেয়েছি খা'রাপ মানুষের

হাত থেকে নিজেকে বাঁ'চানোর জন্য। আমা'র বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই। আমি তোকে বিশ্বা'স করে ঠকেছি। তোকে তো টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার সবই দিয়েছিলাম। তাহলে কেন এমন করলি? এত মিথ্যা কেন বললি? কী' অ'প'রাধ করেছি? জীবনের কাছে হেরে গেলাম। ঠকে গেলাম। তুই জিতে গেলি। ভালো থাকিস মাইনুল।’হ'ত্যার শ'ঙ্কা প্রকাশ করে ডায়েরির আরেক পাতায় সাদিয়া লিখেছেন, ‘আমি পারিনি তোমাকে ঠকাতে। হয়তো কোনোদিন পারবও না। তোমা'র সমস্ত সত্যি জেনে গেছি। হয়তো আমাকে মে'রে ফেলবে। পথের কাঁ'টা আমি এখন তোমা'র।’২০২২ সালের ৩ মা'র্চ লেখা ডায়েরির পাতায় সাদিয়া উল্লেখ করেছেন, ‘ওরা সকলে বলেছিল তুমি আমা'র সঙ্গে টাকার জন্য অ'ভিনয় করেছ, আমি বিশ্বা'স করিনি। আমি বিশ্বা'স করেছি তোমাকে। তার বিনিময়ে সব কিছু হারিয়ে আজ আমি নিঃস্ব। তুমি আমাকে মা'রছ প্রতি মিনিটে মিনিটে। তবে তুমি ভালো থাকো। সবশেষ তোমা'র শান্তি কামনা করি।’সাদিয়ার পরিবার বলছে, মাইনুল প্রতারণা করে তার সব টাকা-স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করেছে। এছাড়া দুজনের মধ্যে প্রে'মের সর্ম্পকের শুরুতে অবিবাহিত বললেও যখন জানতে পারে মাইনুল দুই সন্তানের জনক তখন থেকেই সাদিয়া প্রতারণার অ'ভিযোগ তোলে। এসব বিষয়ে কথা বলতে গেলে মাইনুল প্রচণ্ড রকমের মা'রধর করতেন সাদিয়াকে। এমনকি মাইনুল যেন চুল ধরে মা'রধর করতে না পারে সেজন্য নিজের মা'থার চুল কে'টে ফেলেছিলেন সাদিয়া।সর্বশেষ ৬ মা'র্চ বাসায় এলে সাদিয়াকে ব্যাংকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে যে ১৩ লাখ টাকা নিয়েছিলেন তার বাকি পাঁচ লাখ টাকা ফেরত চান মাইনুল। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয় এবং সাদিয়াকে মা'রধর করে বাসা থেকে বের হয়ে যান।সাদিয়ার বাবা সিরাজুল ইস'লাম বলেন, মাইনুল জানতো সাদিয়া কখন তার মে'য়েকে নিয়ে স্কুলে যাবে। সেভাবেই সে এসে হয়তো অ'পেক্ষা করছিল। মে'য়েকে স্কুলে দিয়ে বাসায় ফেরায় সাদিয়াকে মে'রে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছে ক্ষুব্ধ মাইনুল। এরপর আমাদের পরিবারের লোকদের মোবাইলে কল করে জানিয়েছে সাদিয়া আত্মহ'ত্যা করেছে। প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে সিরাজুল ইস'লাম বলেন, যদি সাদিয়া আত্মহ'ত্যা করে তাহলে সে বাইরে বসে জানল কেমনে?৭ মা'র্চ বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বৈদ্যপাড়ায় একটি ভবনের পাঁচতলা থেকে সাদিয়ার লা'শ উ'দ্ধার করে পু'লিশ। এক বছর আগে সাদিয়াকে প্রে'ম করে বিয়ে করে বরিশালে ভাড়া বাসায় থাকতেন বরিশাল জে'লা ডিবির কনস্টেবল মাইনুল ইস'লাম।

Back to top button

You cannot copy content of this page