সেই ফোনালাপ আমা'র নয়: এমপি জলি

মহিলাবিষয়ক কর্মক'র্তাকে থাপ্পড় দিয়ে এলাকাছাড়া করার হু'মকির অ'ভিযোগ অস্বীকার করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পাবনার সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য নাদিরা ইয়াসমিন জলি।তিনি জানান, যে ফোনালাপের রেকর্ডিংয়ের ভিত্তিতে এই অ'ভিযোগ সামনে আনা হয়েছে সেটি তার নয়।পাবনা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ৩টায় তিনি এই সংবাদ সম্মেলন ডাকেন।

সেখানে তিনি জানান, ওই নারী কর্মক'র্তার বি'রুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন।মঙ্গলবার সকালে জে'লা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে জলির বি'রুদ্ধে হু'মকি-ধমকির অ'ভিযোগ তোলেন জে'লা মহিলাবিষয়ক কর্মক'র্তা কানিজ আইরিন জাহান।এর পরিপ্রেক্ষিতে

ডা'কা সংবাদ সম্মেলনে এমপি জলি বলেন, ‘আমাকে জড়িয়ে একটি অডিও এবং সংবাদ অনলাইনে প্রকাশ হয়েছে এবং ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি দেখে হতভম্ব হয়েছি, কারণ এটা আমা'র নয়। নারী দিবসে একজন মহিলা সাংসদের বি'রুদ্ধে এমন অ'ভিযোগ ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখছি। খুবই ক'ষ্ট পেয়েছি। কারণ আমি সার্বক্ষণিক নারীদের নিয়েই থাকি। নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করি।‘গতকাল সোমবার ঐতিহাসিক ৭ই মা'র্চের নানা অনুষ্ঠান নিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত ছিলাম। তাহলে আমি তাকে কখন ফোন দিয়ে হু'মকি দিলাম? বিষয়টি আমা'র বুঝে আসছে না। একজন দু'র্নীতিবাজ নারীর এমন অ'ভিযোগে আমি অ'ত্যন্ত ম'র্মাহত ও ব্যথিত।’

কানিজ আইরিনকে দু'র্নীতিবাজ অ্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘তিনি পুরো জে'লাজুড়ে বিভিন্ন নারীর সঙ্গে খা'রাপ আচরণ করেছেন। পরিদর্শকের নামে তিনি চাঁদা উত্তোলন করেন। অনেক ভালো ভালো এনজিও তিনি বাতিল করে দিয়েছেন। সেসব বিষয়ে আম'রা প্রশ্ন করলে তিনি জানান কাগজপত্র ঠিক নেই। তাহলে শুরুতে কেন তাদের এনজিও অনুমোদন দেয়া হয়?’ফোন রেকর্ডের কথা অস্বীকার করে এমপি বলেন, ‘আমি ওই নারী কর্মক'র্তাকে ফোন দিয়েছিলাম, কিন্তু আমা'র ফোন উনি রিসিভ করেননি।

সামাজিক মাধ্যমে যেটি ভাই'রাল হয়েছে, সেই ফোন নম্বরটিও আমা'র নয়, কণ্ঠও আমা'র নয়। সফটওয়্যার দিয়ে অডিও বানিয়ে আমা'র নামে চালিয়ে দেয়া হয়েছে।’কানিজের বি'রুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়ে এমপি জলি বলেন, ‘ইতোমধ্যে তার বি'রুদ্ধে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অ'ভিযোগ দেয়া হয়েছে। এর আগের সাবেক জে'লা প্রশাসক কবির মাহমুদও তার বি'রুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অ'ভিযোগ দিয়েছিলেন। খুব শিগগিরই তার বি'রুদ্ধে ত'দন্ত হবে বলে মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।’

যা ঘটেছিল জে'লা মহিলাবিষয়ক কর্মক'র্তা কানিজ বলেন, ‘নারী দিবস উপলক্ষে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত আসনের মহিলা সংসদ সদস্য নাদিরা ইয়াসমিন জলিকে প্রধান অ'তিথি করা হয়েছিল। দাপ্তরিক ব্যস্ততার কারণে আমন্ত্রণপত্র দিতে একটু দেরি হয়।’‘গতকাল (সোমবার) বেলা ১১টায় সদর উপজে'লা ভাইস চেয়ারম্যান শামসুন্নাহার রেখা আমাকে ফোন করে সংসদ সদস্য নাদিরা ইয়াসমিন কেন চিঠি পাননি এর কারণ জানতে চান। আমি তাকে চিঠি পাঠানো হচ্ছে বলে জানাই।’হু'মকির অ'ভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘এ সময় সংসদ সদস্য নাদিরা ইয়াসমিন জলি ফোন নিয়ে আমাকে গালিগালাজ শুরু করেন।

একপর্যায়ে আমাকে থাপ্পড় দিয়ে পাবনা ছাড়া করবেন বলে ধমক দেন। আমাকে দু'র্নীতিবাজ বলে গালি দিয়ে ১০ মিনিটের মধ্যে পাবনা থেকে তাড়াতে পারেন বলেও হু'মকি দেন তিনি।’ভাই'রাল হওয়া অডিও রেকর্ডে শোনা যায়, প্রথমে ভাইস চেয়ারম্যান শামসুন্নাহার রেখা মহিলাবিষয়ক কর্মক'র্তাকে ফোন দিয়ে মহিলা এমপিকে কেন আমন্ত্রণ জানানো হয়নি জানতে চান। মহিলাবিষয়ক কর্মক'র্তা চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানালে বাসায় কেন লোক পাঠানো হয়নি বা ফোন করা হয়নি তা জানতে চান।একপর্যায়ে নাদিরা ইয়াসমিন জলি এমপি ফোন কেড়ে নিয়ে বলেন, ‘এই, আপনি কী' হয়েছেন?

আপনি নারী হয়ে নারীদের সম্মান করেন না। আপনাকে এক থাপ্পড় মে'রে পাবনা ছাড়া করব কিন্তু, বেশি স্পর্ধা হয়েছে। সবকিছু কি আপনার লিজ দেয়া হয়েছে?’এ সময় তাকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘মে'য়েদের সঙ্গে খা'রাপ ব্যবহার করেন, আপনাকে কী' করে পাবনা ছাড়া করতে হয় তার ব্যবস্থা আমি করছি। আপনাকে পাবনা ছাড়া করা মাত্র দশ মিনিটের বিষয়…’ বলে গালিগালাজ করতে থাকেন।এ ঘটনায় কানিজ ফাতেমা বলেন, ‘আমা'র কাজে অনিয়ম, ভুল-ত্রুটি পেলে তিনি বকা দিতে পারেন, প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করতে পারেন। কিন্তু থাপ্পড় দেয়ার কথা বলতে পারেন না।’ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমা'র বাবা-মা'ও কখনো আমাকে থাপ্পড় দেননি। অথচ নারী দিবসে আমাকে এমন একটি পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হলো। আমি এখানে সরকারের দায়িত্ব পালন করতে এসেছি, নারী দিবসের দিনে থাপ্পড় খেতে নয়। ঘটনার পর থেকে আমি শারীরিকভাবে অ'সুস্থ হয়ে পড়েছি।’এ বিষয়ে নারী দিবসের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করা পাবনার অ'তিরিক্ত জে'লা প্রশাসক (স্থানীয় সরকার) মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘মহিলাবিষয়ক কর্মক'র্তা মৌখিকভাবে অ'ভিযোগ করেছেন। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে।’

Back to top button

You cannot copy content of this page