ধ'র্ম পরিচয় জানতে চাওয়া কি অ'প'রাধ, জবাবে যা বললেন চঞ্চল!

মা দিবসে সাই’বার হ’য়রা’নির শি’কার হ’য়েছিলেন জনপ্রিয় অ'ভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। আর সবার মতো সেদিন ফেসবুকে মায়ের সঙ্গে নিজের ছবি প্রকাশ করে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়েছেন তিনি।

ছবি পোস্টের পর মন্তব্যের ঘরে ধ'র্ম নিয়ে ‘কু’রুচি’পূর্ণ’ মন্তব্য করে চঞ্চল চৌধুরীকে আ’ক্র’মণ করেন কেউ কেউ।তিনি কোন ধ'র্মাবলম্বীর জানতে চেয়ে প্রশ্নও করেন অনেকে। জবাবে ওই ছবির মন্তব্যের ঘরে চঞ্চল লেখেন, আমি হিন্দু নাকি মু'সলিম,তাতে আপনাদের লাভ বা ক্ষতি কি? সকলেরই সবচেয়ে বড় পরিচয় ‘মানুষ’। এরপর বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ডিংয়ে পরিণত। এ নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন ছুঁড়েন, কারো ধ'র্ম বিষয়ে জানতে চাওয়া কি অ'প'রাধ?

চার দিন পর এই প্রশ্নের জবাব দিলেন অ'ভিনেতা চঞ্চল নিজেই। বৃহস্পতিবার ভোরে এ বিষয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন চঞ্চল চৌধুরী। তিনি জানান, তার ব্যক্তিগত পরিচয় নিয়ে গত কয়েকদিনে ফেসবুকে যে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বয়ে গেছে তাতে মান’সিকভাবে খুব অস্ব’স্তিতে ভুগছেন তিনি। তাই ভবিষ্যতে নতুন করে তার পরিচয় জানার জন্য কেউ আগ্রহী হলে ব্যক্তিগতভাবে তাকে ই’নবক্স করতে অনুরোধ করেন।

কারো ধ'র্ম বিষয়ে জানতে চাওয়া কি অ’পরা’ধ? – এই প্র’শ্নের জবাবে চঞ্চল যা লিখেছেন তা পাঠকের উদ্দেশে দেওয়া হলো,‘ধ'র্ম পরিচয় জানতে চাওয়াটা কি কোন অ'প'রাধ? তাদের জন্য বলছি। অ'প'রাধ নয়,এটা যেমন ঠিক,আবার বার বার এই পরিচয়টা জানতে চাওয়ার মধ্যেও তেমন কোন বাহাদুরী বা পৌরুষত্ব নেই। বাংলাদেশের আপাম'র জনসাধারণ, ধ'র্ম বর্ণ নির্বিশেষে আমাকে ভালোবাসে,আমা'র কাজ পছন্দ করে, এটাই আমা'র জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।

এই বি’ব্র’তকর পরিস্থিতিতে যারা আমাকে ভালোবেসে আমা'র হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন,সকল ধ'র্মের মানুষ আমা'র মাকে মা ডেকেছেন, আমা'র পরিচিত জন,শুভানুধ্যয়ীসহ,দেশ বিদেশের হাজার হাজার মানুষ খোঁজ নিয়েছেন. আমি এ হেন পরিস্থিতিতে কেমন আছি। তাদের প্রতি আমা'র কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।’

নেতিবাচক মন্তব্য মুছে ফেলার বিষয়ে চঞ্চল লিখেছেন, ‘সামান্য সংখ্যক মানুষ নানান বিব্রতকর প্রশ্ন করে ও গালি গালাজ করে বা আমাকে বর্জন করেও পরবর্তীতে তাদের কমেন্টগুলো ডিলিট করে দিয়েছেন। তাদের প্রতিও আমা'র ভালোবাসা রইল। কারণ তারা এক পর্যায়ে বাস্তব পরিস্থিতিটা বুঝতে পেরেছেন।

যে কারণে,অনেকেই পরবর্তীতে আমাকে দেয়া গালিগুলো আর খুঁজে না পেয়ে উল্টো অ'ভিযোগ করে বলেছেন, কই আমা'র বি'রুদ্ধে তো কেউ তেমন কিছুই লেখেনি। এ নিয়েও আর কোন বিতর্কের দরকার নেই।’ পরিশেষে আয়’নাবাজিখ্যাত এই অ'ভিনেতা লেখেন, ‘সব ধ'র্মেই ভালো মানুষ,মন্দ মানুষ রয়েছে। আমা'র মনে হয় সকল মানুষের পরিচয়টা কর্ম, সহনশীলতা,আর ধ'র্মীয় উদারতা দিয়ে হোক।

আমাকে নিয়ে অ'তিৎসত্বর এই আলোচনারও পরিসমাপ্তি হোক। আমা'র পরিচয় আমি মানুষ,আমি বাংলাদেশি,আমি বাঙালি। আমা'র সবচেয়ে বড় যে পরিচয়ে আপনারা আমাকে চেনেন – সেটা হলো,আমি একজন শিল্পী।আমা'র কাছে হিন্দু, মু'সলমান, বৌদ্ধ, খৃস্টান সবাই সমান এবং আপন।’

Back to top button

You cannot copy content of this page