বাঙালি এক কোচের সহায়তায় ধার বেড়েছে মু'স্তাফিজের!

হিথ স্ট্রিক, কোর্টনি ওয়ালশ, ওটিস গিবসন- জাতীয় দলের সর্বশেষ তিন পেস বোলিং কোচ। তিনজনই হাই প্রোফাইল কোচ। তবে ‘সাবেক’ হওয়া স্ট্রিক-ওয়ালশ কতটা ভূমিকা রাখতে পেরেছেন, কিংবা বাংলাদেশি পেসারদের ক্ষেত্রে গিবসনও বা কতটা কার্যকরী- সেই প্রশ্ন উঠতে বাধ্য।

পেস বান্ধব কন্ডিশনে গিয়ে খেললেও বাংলাদেশের পেসারদের উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স নেই। আবির্ভাবেই দেশের ইতিহাসের সেরা পেসারের তকমা কেউ কেউ জুটিয়ে দিয়েছিলেন যার নামের আগে, সেই মু'স্তাফিজুর রহমানও বোলিংয়ের ধার হারিয়ে ফেলেছিলেন। তবে এবারের আইপিএল খেলতে গিয়ে দেখা মিলল পুরনো কা'টার মাস্টারের। আর তাতে অবদান এক বাঙালি কোচের।

বাঙালি পেস বোলিং কোচ সিদ্ধার্থ লাহিড়ী রাজস্থান রয়্যালসের কোচিং স্টাফ হিসেবে মু'স্তাফিজকে নিয়ে কাজ করেছেন এক মাস। এই সময়ে মু'স্তাফিজের উন্নতি ছিল চোখে পড়ার মত। মু'স্তাফিজও স্বীকার করেছেন এই কোচের অবদান।এবিপি আনন্দকে সিদ্ধার্থ জানালেন, মু'স্তাফিজ কতটা পেশাদার, ‘নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে সামান্য চোট পেয়েছিল ফিজ। ওর হাতে বল এলে আত্মবিশ্বা'স ঠিকরে বের হয়।

কে ওর প্রতিপক্ষ তা ভাবে না। ফিজ জানে ওর প্রস্তুতি কী'রকম, কোথায় শক্তি, কোথায় দুর্বলতা, সবকিছুর পরিষ্কার ধারণা রয়েছে। বলত, দাদা আমি আজ এতগুলো বল করব; আজ বল করব না; বা আজ শুধু ক্যাচ প্র্যাক্টিস করব। ও জানে ওর শরীর কী' চায়। পেশাদার একজন ক্রিকেটার।’

বাংলাভাষী বলে মু'স্তাফিজের সাথে যোগাযোগটা হয়েছিল ভালো। সে কারণেই কা'টার মাস্টারের এমন স্বতঃস্ফূর্ত পারফরম্যান্স কি না, সেই প্রশ্ন ওঠা অবান্তর নয়। সিদ্ধার্থ জানান, মু'স্তাফিজকে স্বাধীনতা দিয়েছিলেন তিনি, ‘আমি শুধু ওকে সাপোর্ট করে গিয়েছি। ফিজ হয়তো আমাকে এসে বলেছে, পিচে জুতো রেখে ইয়র্কার প্র্যাক্টিস করব, ব্যাটসম্যানকে বল করব না, তুমি দাঁড়িয়ে দেখো, মতামত দিও। আমি পর্যবেক্ষণ করে নিজের বিশ্লেষণটা ওকে বলেছি। তাতেই হয়তো ও উপকৃত হয়েছে।’

মু'স্তাফিজ নিজেই জানালেন, সিদ্ধার্থ কতটা কার্যকরী ছিলেন তার জন্য। তিনিও প্রাধান্য দিলেন ভাষার মিলকে। মু'স্তাফিজের ভাষায়- ‘কলকাতার সিদ্ধার্থ স্য়ার আমাকে প্রচুর সাহায্য করেছেন। দুজনই বাঙালি হওয়ায় রাজস্থান রয়্যালসে সহ'জে মিশে যেতে পেরেছিলাম। উনার সঙ্গে নিজের বোলিং নিয়ে অনেক আলোচনা করেছি, পরিশ্রম করেছি। তাতে আমি লাভবান হয়েছি।’

সিদ্ধার্থ অবশ্য মনে করছেন, তিনি শুধু মু'স্তাফিজকে মানসিক সম'র্থনটাই দিয়ে গেছেন। তিনি বলেন, ‘কোচের কাজ হল শুধু মানসিক সম'র্থনটা দেওয়া। একজন বোলার যদি নেটে ডানহাতি ব্যাটসম্যানকে বল করতে চায় আর আমি ওকে বাঁহাতিকে বল করাই, তাহলে হতাশা আসবেই। আমি শুধু সকলকে কমফোর্ট জোনটা দিতে চাই।’

Back to top button

You cannot copy content of this page