এশিয়ার প্রথম ‘বিনা হাতের মহিলা ড্রাইভা'র’, মনোবল দেখে অ'ভিভূত সোশ্যাল মিডিয়া

এটি এশিয়ার প্রথম ‘বিনা হাতের ড্রাইভা'র’, আনন্দ মাহিন্দ্রাও দেখার পরেও অ'ভিভূত হয়েছিলেন প্রতিবন্ধকতার অ'ভিশাপ কেবল তাদের জন্য যারা তাদের মন হারিয়ে ফেলে এবং যারা এটিকে চূড়ান্তভাবে অনুসরণ করে তাদের ভাগ্য হিসাবে অনুসরণ করে।

যাইহোক, এই সমস্ত ব্যক্তির জন্য, প্রতিব'ন্ধীতা হ’ল সমস্ত কিছুর মতো জীবনের একটি অঙ্গ, যার উদ্দেশ্য দৃঢ়। যারা উচ্চ প্রফুল্লতা নিয়ে জীবনে এগিয়ে যেতে চান, ঐশ্বরিকতা তাদের পথে কখনও বাধা হয়ে ওঠে না।কেরালার এক ২৮ বছর বয়সী মহিলা এর জীবন্ত উদাহ'রণ। উভয় হাত না থাকা সত্ত্বেও গাড়ি চালানো এই মেয়েটি ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য এশিয়ার প্রথম হ্যান্ডলেস ড্রাইভা'র হয়ে উঠেছে। কেরলের কারিমানুর গ্রামের বাসিন্দা জিলোমল মেরিয়িট টমাস

এতটাই শক্তিশালী ছিলেন যে তিনি অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলেন জিলোমোলের শৈশব থেকেই গাড়ি চালানোর শখ ছিল। তার উভয় হাত না থাকলে তার জন্য ব্যাপারটা কিছুটা কঠিন ছিল, তবুও যখন তিনি জানতে পারল যে হাত নেই, বিক্রম অ'গ্নিহোত্রি নামে এক ব্যক্তি ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়েছে, তখন তার ইচ্ছা আরও দৃঢ় হয়।

তার দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির জো'রে, জিলোমল অবশেষে একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়েছিল। জিলোমল 2018 সালে একটি কাস্টম তৈরি মা'রুতি সেলারিও কিনেছিলেন। একই বছর ড্রাইভিং লাইসেন্সও পেয়েছিলেন তিনি। আসলে জিলোমল প্রতিদ্বন্দ্বীর হয়ে দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে, যারা প্রতিব'ন্ধীহওয়ার পরে বেঁচে থাকার আশা ছেড়ে দেয়। জিলোমলের বাড়ির অন্য কেউ কী'ভাবে গাড়ি চালাবেন জানেন না, তবে অ'ত্যন্ত আত্মবিশ্বা'সের সাথে তিনি কেবল গাড়ির স্টিয়ারিং ধরে রাখেন না, ব্রেকগু'লিও প্রয়োগ করেন। কিছুক্ষণ আগে জিলোমলের ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাই'রাল হয়েছিল।

বিখ্যাত এই শিল্পপতি এবং মাহিন্দ্রা গ্রুপের চেয়ারম্যান আনন্দ মাহিন্দ্রাও এই ভিডিওটি দেখে অ'ভিভূত হয়েছিলেন। তিনি সাহসের জন্য জিলোমলের প্রশংসাও করেছিলেন। জিলোমল পড়াশুনায় সর্বদা এগিয়ে ছিল। গ্রাফিক ডিজাইনিংয়ের ক্ষেত্রেও তিনি তাঁর কেরিয়ার বেছে নিয়েছেন।এ ছাড়াও জিলোমলের চিত্রকলা খুব পছন্দ। লক্ষণীয় বিষয়, জিলোমোল যখন জন্মগ্রহণ করেছিলেন, তখন তাঁর দুটি হাত ছিল না।

তিনি তার পা এবং হাঁটু উভয়ের সাহায্যে গাড়ি চালান। জিলোমল কোনওভাবে গাড়িটি কিনেছিল তবে এর জন্য তাকে পরিবারের সদস্যদের অনেক কিছু বোঝাতে হয়েছিল।জিলোমলের মতে, তার বাবা-মা তাঁর সুরক্ষার জন্য উদ্বিগ্ন ছিলেন, যার কারণে তাঁরা মানতে দ্বিধা বোধ করেছিলেন। আমাদের সকলের প্রচলিত ধারণা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা একটা অ'ভিশাপ। পঙ্গু শি'শুর কোনও ভবিষ্যত নেই, এ ধরনের শি'শুরা পরিবারের বোঝা।

অর্থনৈতিক ভাবেতারা অক্ষম তাই তাদের লেখাপড়া শেখার কোনও দরকার নেই। আর বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শারীরিক ভাবে অক্ষম ব্যক্তিরা কোনও দিন সেরেও ওঠে না। কিন্তু বাস্তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে অ'তীতের কাজের কোনও স'ম্পর্ক নেই। এটা এক ধরনের বি'কৃতি যা মায়ের গর্ভে শি'শু থাকার সময় অযত্নের কারণে হতে পারে, বা বংশগত কারণেও এই বিকলাঙ্গতা আসতে পারে।

প্রয়োজনীয় সময়ে ডাক্তারি সাহায্যের অ'প্রতুলতা, ওষুধপত্রের অভাব, দুর্ঘ'টনা বা আ'ঘাতজনিত কারণেও মায়ের গর্ভে থাকাকালীন শি'শু বিকলাঙ্গ হয়। শারীরিক ও মানসিক ভাবে পঙ্গু ব্যক্তি সব সময়ের জন্য দয়া ও করুণার পাত্র হয়। আম'রা ভুলে যাই যে পঙ্গু বিকলাঙ্গ মানুষের করুণার চাইতে বেশি দরকার অধিকার ও সহম'র্মিতার। প্রতিবন্ধকতাকে আমাদের সমাজে ক'লঙ্কস্বরূপ দেখা হয়।একটি পরিবারে মানসিক ভাবে অ'সুস্থ কেউ থাকলে সেই পরিবারকে পরিত্যাগ করা হয়, এবং তাকে সমাজে হেয় জ্ঞান করা হয় ।

শি'শুর উন্নতির জন্য সব রকম অবস্থাতেই প্রত্যেকটি শি'শুর শিক্ষার প্রয়োজন। সেই শি'শু যদি প্রতিব'ন্ধীও হয় তবুও এটা সত্য।কারণ এর দ্বারাই শি'শুর সার্বিক বিকাশ সম্ভব। প্রতিব'ন্ধী শি'শুর বিশেষ যত্নের ও দেখাশোনার প্রয়োজন। যদি তারা সঠিক সুযোগ পায় তবে তারাও জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় কাজ করতে পারে। প্রতিবন্ধকতা তখনই জীবনে দুঃখ বয়ে আনে যদি প্রতিব'ন্ধী শি'শুর প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করতে আম'রা ব্যর্থ হই।

Back to top button

You cannot copy content of this page