এবার হেফাজতের নেতৃত্বে এলো নতুন মুখ

হেফাজতে ইস'লাম এই মূহুর্তে দেশের সবচেয়ে আ'লোচিত নাম, আ'লোচিত সংগঠন। শুরুতে সংগঠনটি কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে আবির্ভূত হলেও সংগঠনটির বর্তমান নেতৃত্ব সংগঠনটিকে এক ধরনের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

তারা কখনও নিজেদের সুবিধার্থে হেফাজতকে ব্যবহার করেছে, কখনও সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্রের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে আবার কখনও ব্যবহার হয়েছে রাষ্ট্র ও সরকার বিরোধী গভীর ষড়যন্ত্রে। এভাবে নানা জায়গায় ব্যবহার হতে হতে হেফাজতে ইস'লাম এখন ব্যবহারের অযোগ্য একটি সংগঠনে পরিণত হয়েছে।

আর এই অবস্থার জন্য দায়ি করা হচ্ছে সংগঠনটির বর্তমান নেতৃত্বকে। বিশেষ করে হেফাজতের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী, মামুনুল হকদেরকে। তারা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য হেফাজতকে ব্যবহার করেছে। আর এ কারণে এসব শীর্ষ নেতাদের অ'পকর্মের দাগ যাতে হেফাজতের গায়ে না থাকে সেজন্য নতুন করে গ্রহণযোগ্যদের দিয়ে কমিটি করার একটা প্রক্রিয়া চলছে গুঞ্জন উটেছে।

হেফাজতের একটি সূত্র বলছে, শীর্ষ নেতাদের গ্রে'ফতারের পরেও হেফাজত নেতারা আশায় ছিলেন যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে যদি সরকারের অবস্থান শিথিল করা যায় তাহলে হয়তো এই নেতৃত্বে দিয়েই হেফাজতকে চালানো যাবে। কিন্তু সরকার এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখারা জন্য।

এজন্য সরকার বলছে যারা অ'প'রাধ করেছে, জ্বালাও পোড়াও করেছে এবং সহিং'সতা বা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অ'প'রাধে জ'ড়িত ছিলো সেসব সুনির্দিষ্ট অ'ভিযোগের ভিত্তিতেই এই ধরপাকড় হচ্ছে। সরকারের এই অবস্থানের কারণে হেফাজত নেতারা ঘাবড়ে গেছেন।

একদিকে সরকারের কঠোর অবস্থান, অন্যদিকে শীর্ষ নেতাদের অ'পকর্ম একে একে প্রকাশ্যে আসায় দলীয় কর্মীদের মধ্যে বর্তমান নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ চরমে। ফলে হেফাজতে নেতারা মনে করছেন নুতন মুখকে নেতৃত্বে এনে এই কমিটি ভেঙে দিলে হয়তো পরিস্থিতি কিছুটা ঠান্ডা হবে এবং পরবর্তীদের সিদ্ধান্ত নিয়ে দলীয় কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

যেহেতু বর্তমান কমিটির অধিকাংশ পরিচিত নেতারা কোনো না কোনো ভাবে সরকার বিরোধীতা এবং বিভিন্ন আর্থিক অ'ভিযোগে জড়িয়ে পড়েছেন তাই নতুন মুখের কেউ যদি নেতৃত্বে আসে তাহলে সরকার হয়তো নমনীয় হতে পারে হেফাজতের ব্যাপারে এবং সমালোচনা থেকেও রক্ষা পাবে হেফাজত।

আর সেই নতুন মুখ হিসেবে প্রয়াত আমীর আল্লামা শাহ আহমেদ শফির পূত্র আনাস মাদানীর নাম শোনা যাচ্ছে হেফাজতের অন্দরমহলে। অন্য একটি সূত্র বলছে, শুধু হেফাজতের কমিটি ভেঙেই শেষ নয় পরিবর্তন আসছে হেফাজতের নেতৃত্ব-কতৃত্বেও ওপরে। বিশেষ করে এতদিন হেফাজতের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ছিলো কওমি মাদ্রাসাগুলোতে।

কিন্তু এখন নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী কওমি মাদ্রাসা পরিচালনার ক্ষেত্রে সব সিদ্ধান্ত নেবে নির্ধারিত বোর্ড ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’। মাদ্রাসা পরিচালনায় কোনধরনের হস্তক্ষেপ করতে পারবে না হেফাজতে ইস'লাম।

এতে করে হেফাজতের আধিপত্য বহুগুণে কমে যাবে। এ ছাড়া এ অবস্থায় সরকারবিরোধী অবস্থান থেকে সরে এসে উল্টো সরকারের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে চাচ্ছে দলটি। তবে দেশজুড়ে সহিং'সতায় জ'ড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সূত্র: ইটিভিবিডি২৪.কম

Back to top button

You cannot copy content of this page