মইন আলীর পর সাকিবের উপর ক্ষোভ ঝাড়লেন তসলিমা

সম্প্রতি ক্রিকেটার মইন আলিকে জ’ঙ্গি বলে তোপের মুখে পড়েছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। বিতর্কিত তার টুইট নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়েন ইংলিশ ক্রিকেটাররা। যার মধ্যে একজন ছিলেন ইংল্যান্ডের সাকিব মাহমুদ। কিন্তু সেই সাকিব মাহমুদকে বাংলাদেশের সাকিব মনে করে এক ফেইসবুক স্ট্যাটাসে ক্ষোভ ঝেড়েছেন এই লেখিকা।

আজ বুধবার বিকাল সাড়ে চারটার দিকে বিরাট এক ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে মঈন আলীকে নিয়ে বিতর্কিত টুইটের ব্যাখা জানাতে গিয়েই সাকিব আল হাসানের উপর ব্যাপক রাগ ঝাড়লেন বিতর্কিত লেখিকা! সাকিবের কোলকাতায় পুজা উদ্বোধন করে দেশের মৌলবাদি গোষ্টির রোষানলে পড়ার পর তসলিমা সাকিবের পক্ষ হয়ে কলম ধরেছিলেন। সেই সাকিবই কিনা মঈন আলীর পাশে দাড়ালেন!

আক্ষেপ এবং রাগ দুটোই ঝড়ে পড়েছিলো বিকালের ওই স্ট্যাটাসে। পড়েছিলো বলছি এ কারনে যে বিকালের ওই স্ট্যাটাসটি দু’দফা এডিটের পর সাকিবের বিষয়টি মুছে দিয়েছেন তসলিমা।ইডিট করা স্ট্যাটাস: ‘টুইটারে হাজার হাজার এবিউজ বিরোধী সে’না আমাকে এবিউজ করছে, আমা’র দোষ কেন আমি মইন আলীকে ‘এবিউজ’ করেছি। এর মানে মইন আলীকে এবিউজ করা ঠিক নয়, আমাকে এবিউজ করা ঠিক।

অ’পমান অসম্মান অ’ত্যাচার জীবনে কম দেখিনি। যত দিন বাঁচি ততদিন দেখতে হবে জানি। ঝাঁকে ঝাঁকে মু’সলিম মৌলবাদি, ফেক বাম, আমাকে না-পড়া লোক, আমা’র কিছুই না জানা লোক, পঙ্গপালের মতো আমা’র ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে, লক্ষ শকুন যেন জীবন্ত আমাকে খুবলে খাচ্ছে। পকেটমা’র স’ন্দেহে গরিব নিরীহ ছে’লেকে উন্মত্ত জনতা যেমন পি’টিয়ে মে’রে ফেলে, সেরকম মনে হচ্ছিল আমা’র, যেন আমি সেই গরিব নিরীহ ছে’লেটি। দোষটা কী'’ ছিল আমা’র? একটি জোক।’

‘আযান পড়লে যে মানুষ মাঠেই নিজের জায়নামাজ পেতে নামাজ পড়েন, খেলা চলতে থাকলে নাকি আম্পায়ারকে বলে চলেও যান নামাজ পড়তে, বিজয়ের শ্যাম্পেন খুললে দ্রুত সরে যান দূরে, বিয়ার কোম্পানীর লোগো থাকলে সেই জার্সি পরবেন না বলে জানিয়ে দেন, পয়গম্বরের আদেশ মাফিক গোঁফ ট্রিম করতে থাকেন, দাড়ি বড় করতে থাকেন,

কোনও মে’য়ে সাংবাদিককে সাক্ষাৎকার দিলে মুখের দিকে একটিবারও না তাকিয়ে সাক্ষাৎকার দেন — তাঁকে নিয়ে যদি কৌতুক করিই, তাহলে কি টুইটারের একাউন্ট উড়ে যাবে? হ্যাঁ এমনই থ্রেট এসেছে। আমাকে যারা গতকাল থেকে এবিউজ করছে, তারা তো অনেকেই শার্লি আব্দোকে সম’র্থন করে। শার্লি আব্দো তো মস্করা করে বিখ্যাত লোকদের নিয়ে, তাহলে সেটা সম’র্থন করে কিভাবে? নাকি ওরা ফরাসি বলে ওদের সম’র্থন করা চলে!’

‘মইন আলীকে নিয়ে লেখা টুইট ছিল কয়েকদিন আগের। সেটিতে দু তিন হাজার লাইক পড়েছিল, কেউ কিন্তু তখন কোনও অ’ভিযোগ করেনি। হঠাৎ গতকাল কবিতা কৃষ্ণন নামে একজন বামপন্থী আমাকে গালিগালাজ করলেন টুইটটি নিয়ে। অমনি শুরু হয়ে গেল, তথাকথিত বাম এবং মু’সলিম মৌলবাদিদের তসলিমা এবিউজ। গালি, গালি এবং গালি। সংগঠিত মৌলবাদিরা আজও চালিয়ে যাচ্ছে এবিউজ। সাধারণ মানুষও এসে কুৎসিত কথা বলে যাচ্ছে। মাঝখানে ইংলেণ্ডের ক্রিকেটাররাও যা নয় তা তো বললেনই, আমা’র টুইটার একাউণ্ট রিপোর্ট করার জন্যও ভক্তদের বলে গেলেন। ঘৃ’ণার মতো সংক্রামক বোধহয় ডেডলি ভাই’রাসও নয়।’

‘কেউ জানলো না আমা’র স্ট্রাগল, আমা’র দীর্ঘ বছরের সংগ্রাম। মানবতা, মানবাধিকার, নারীর অধিকার, বাক স্বাধীনতা, সমতার জন্য জীবনের ঝুঁ’কি নিয়ে নিরবধি আমা’র লেখালেখি। সবাই মনে করতে লাগলো আমি সারাজীবন ধরে ওই এক লাইনের একটা টুইটই লিখেছি, আমা’র আর কোনও কন্ট্রিবিউশান নেই, তাই আমাকে শায়েস্তা করা উচিত। মৌলবাদিদের দু’দিন ব্যাপী উৎসব চলছে। কারণ বড় বড় ক্রিকেটার আমাকে গালি দিচ্ছেন, বামপন্থী গালি দিচ্ছেন, নামী দামী লোক গালি দিচ্ছেন, তাদের আনন্দ আর আর ধরছে না।’

Back to top button

You cannot copy content of this page