আর বাঁচবো কি না জানি না, ভোট দিয়ে খুশি’
‘আর বাঁচবো কি না জানি না, পছন্দের প্রার্থীকে আনন্দের সঙ্গে ভোট দিলাম। ভোট দিতে পেরে আমি খুব খুশি’- কথাগুলো বলছিলেন শরীয়তপুরের ডামুড্যা পৌর নির্বাচনে ভোট দিতে আসা ১২১ বছরের বৃদ্ধা জুমন নেছা।
জুমন নেছা পৌরসভা'র ৫নং ওয়ার্ডের কুলকুড়ি গ্রামের বাসিন্দা। নাতি মনির হোসেন ব্যাপারীর কোলে বসে ফোরকানিয়া মাদরাসা কেন্দ্রে এসে ভোট দেন তিনি। ভোট দিতে মাত্র দুই মিনিট সময় লেগেছে তার।জুমন নেছা বলেন, জীবনে অনেক ভোট দিয়েছি। জীবনে আর ভোট দিতে পারবো কিনা জানি না। শেষ বয়সে এসে ভোট দিলাম। অনেক ভালো লাগলো। হাঁটতে পারি না তাই বিছানায় পড়ে থাকি। ভেবেছিলাম ভোট দিতে পারব না। কিন্তু নাতি আমাকে কোলে করে ভোট'কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
এই বৃদ্ধার মেঝ মে'য়ে আছিয়া খাতুন (৬৫) বলেন, ‘আম'রা দুই ভাই ও দুই বোন। বাবা (মৃ'ত আব্দুল জলিল ছৈয়াল) ২০ বছর আগে মা'রা গেছেন। আজ অনুনয়-বিনয় করে মা বলছিলেন ভোট দেবেন, তাই আমা'র ছোট ছে'লে তাকে ভোট'কেন্দ্রে নিয়ে যায়। মা'র বয়স ১২১ হয়েছে, কতদিন বাঁচেন আল্লাহ জানেন। আল্লাহ মাকে অনেকদিন বাঁচিয়ে রাখুক’।
কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পু'লিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ওয়ালিয়ুর রহমান বলেন, জুমন বয়স্ক তাই তাকে পু'লিশ ও আনসার-ভিডিপির সদস্যরা সাহায্য করেছেন। দেখলাম তিনি ভোট দিতে পেরে খুব খুশি।ডামুড্যা পৌরসভা'র ৫নং ওয়ার্ড কুলকুড়ি মজিদ মাদবর বাড়ি ফোরকানিয়া মাদরাসা কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার আব্দুর রশিদ জানান, শতভাগ শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। এই কেন্দ্রে মোট ভোটার এক হাজার ৬৮৪ জন। এর মধ্যে ৮১০ জন পুরুষ এবং ৮৭৪ জন নারী।
জে'লা নির্বাচন কর্মক'র্তা মোহাম্ম'দ জাহিদ হোসেন বলেন, শরীয়তপুরের ডামুড্যা পৌরসভায় রোববার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। এখন পর্যন্ত কোনো অ'প্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।উল্লেখ্য, ডামুড্যা পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে চারজন,
সংরক্ষিত ওয়ার্ডে নারী কাউন্সিলর পদে ৯ জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।এ পৌরসভা'র ৯টি কেন্দ্রে মোট ১২ হাজার ২৫৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এরমধ্যে মহিলা ভোটার ছয় হাজার ২৯৯ জন আর পুরুষ পাঁচ হাজার ৯৬০ জন।