পু'লিশ-প্রশাসনের উদ্দেশে কঠিন হুশিয়ারি দিয়ে যা বললেন ইসি মাহবুব

পৌরসভা নির্বাচনে সহিং'সতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মাহবুব তালুকদার। তিনি বলেছেন, নির্বাচনে সহিং'সতা ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্রমবর্ধমান ঘটনায় আমি উদ্বিগ্ন।

পু'লিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্দেশে হুশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনকালে আপনাদের হাতে যে অ'পরিমেয় ক্ষমতা আছে, তা প্রয়োগ করে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ কেন নিশ্চিত করা যাবে না- তা আমা'র বোধগম্য নয়। পাশাপাশি একথাও বলে দিতে চাই, নির্বাচনের দায়িত্বপালনে কারও কোনো শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না। এ বিষয়ে আম'রা ‘জিরো টলারেন্স (শূন্য সহিষ্ণুতা)’ নীতিতে বিশ্বা'সী।

বুধবার ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের ২৯টি পৌরসভা'র নির্বাচন সামনে রেখে জে'লা প্রশাসক, এসপি, রিটার্নিং কর্মক'র্তাসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে অনলাইন মিটিংয়ে এসব কথা বলেন। এসব পৌরসভায় চতুর্থ ও পঞ্চ'ম ধাপে ভোট হবে। এ সভায় নির্বাচন কমিশনে সচিব মো. হু'মায়ুন কবীর খোন্দকার ও অ'তিরিক্ত সচিব অশোক কুমা'র দেবনাথ অংশ নেন। ইসির যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহাম্ম'দ খান এই সভা সঞ্চালনা করেন। এতে রিটার্নিং অফিসার, পু'লিশ সুপার ও জে'লা প্রশাসকেরা তাদের প্রস্তুতি ও সমস্যা তুলে ধরেন।

কর্মক'র্তাদের উদ্দেশে মাহবুব তালুকদার বলেন, সংবিধানের রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি গণতন্ত্র ও মানবাধিকার অংশে বলা হয়েছে- ‘প্রশাসনের সব পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে’। এর অর্থ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ রাষ্ট্রক্ষমতায় অংশগ্রহণ করে।
তিনি বলেন, আমাদের মুক্তিযু'দ্ধের চেতনার নির্যাস হচ্ছে গণতন্ত্র। গণতন্ত্রের পূর্বশর্তই হচ্ছে নির্বাচন। নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার প্রতিটি আইনকানুন ও আচরণবিধি কঠোরভাবে পালনের মধ্য দিয়ে সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন করে আম'রা গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত করতে চাই।

মাহবুব তালুকদার বলেন, সম্প্রতি ভোটারদের ভোটবিমুখতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এটি গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। এর কারণগুলো বিশ্লেষণ করে তা প্রতিকারের প্রচেষ্টা চালানো প্রয়োজন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য আম'রা শপথ গ্রহণ করেছি। আপনারা আমাদের শপথের অংশীদার। কারণ নির্বাচন আম'রা সরাসরি করি না, নির্বাচন করেন আপনারা। নির্বাচন কমিশনের সব ক্ষমতা ও শক্তি এখন আপনাদের কাছে হস্তান্তরিত। কমিশনের নির্দেশে আপনারা এই ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।

প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনী দায়িত্ব যারা পালন করবেন, তাদের কাছ থেকে পক্ষপাতমূলক আচরণ কখনো আশা করি না। আম'রা কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের প্রতি অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী হয়ে দায়িত্ব পালন করতে আসিনি। সব প্রার্থী আমাদের কাছে এক এবং অ'ভিন্ন। সবার প্রতি আচরণে আপনাদের ভূমিকা হচ্ছে বিচারকের মতো নির্মোহ। অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাকে ৫টি ‘নি’ দিয়ে সংজ্ঞায়িত করে এ কমিশনার বলেন, নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় নিশ্চয়তা, নিরপেক্ষতা, নিরাপত্তা, নিয়ম-নীতি ও নিয়ন্ত্রণ কমিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আম'রা প্রস্তুত রয়েছি।

Back to top button

You cannot copy content of this page