করো'নার টিকাদানে কে কতটা এগিয়ে

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শুরু হয়েছে করো'নার টিকাদান। সেই দৌড়ে এগিয়ে উন্নত দেশগুলোই। উন্নয়নশীল কয়েকটি দেশ থাকলেও কোনো ‘অনুন্নত দেশ’ এখনো কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। চলুন জেনে নেই বিভিন্ন দেশের টিকা কার্যক্রমের পরিসংখ্যান-

ইস'রায়েল: করো'নার টিকা কার্যক্রমে সবার চেয়ে দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে ইস'রায়েল। বায়োনটেক-ফাইজারের টিকা দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু করেছে তারা ১৯ ডিসেম্বর থেকে। পাঁচ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ১৫ লাখ ডোজ টিকা দিয়েছে। অর্থাৎ, ১৭ ভাগ জনগোষ্ঠীকে এরই মধ্যে টিকার আওতায় এনেছে ইস'রায়েল, যা সবার চেয়ে বেশি।

সংযু'ক্ত আরব আমিরাত: পাঁচ জানুয়ারি পর্যন্ত সংযু'ক্ত আরব আমিরাত তাদের সোয়া আট ভাগের বেশি মানুষকে করো'নার টিকা দিতে পেরেছে। মোট আট লাখ ২৬ হাজার ডোজ টিকা দিয়েছে তারা এই সময়ের মধ্যে।

বাহরাইন: পারস্য উপসাগরীয় দেশ বাহরাইনের প্রতি ১০০ জনের চারজন এরই মধ্যে টিকা পেয়েছেন। এক্ষেত্রে ইস'রায়েল ও আরব আমিরাতের পরেই তাদের অবস্থান। মোট টিকাপ্রাপ্ত মানুষের সংখ্যা ৬৮ হাজারের বেশি।

যু'ক্তরাষ্ট্র: করো'নার টিকা বিতরণের মোট সংখ্যায় সবার উপরে যু'ক্তরাষ্ট্র। ৫৩ লাখের বেশি মানুষ এরই মধ্যে টিকা নিয়েছেন। কিন্তু শতকরা হিসেবে ৬ জানুযারি পর্যন্ত করো'নার টিকার আওতায় এসেছেন এক দশমিক ছয় শতাংশ।

যু'ক্তরাজ্য: আট ডিসেম্বর বায়োনটেক ও ফাইজারের ভ্যাকসিন দিয়ে করো'নার টিকা কার্যক্রম চালু করে যু'ক্তরাজ্য। তাদের হালনাগাদ তথ্যটি ২৭ ডিসেম্বরের। সেই হিসাবে সাড়ে নয় লাখ ডোজ টিকা বিতরণ করেছে তারা, যা মোট জনগোষ্ঠীর সোয়া এক ভাগের বেশি।

চীন: গত সপ্তাহে রাষ্ট্রীয় কোম্পানি সিনোফার্মের টিকার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে চীন। শেষ ধাপের ট্রায়ালে আছে আরো কয়েকটি। তবে অনুমোদনের আগে পরীক্ষা পর্যায়েই সেসব টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে ৪৫ লাখ মানুষের দেহে। বিশাল জনগোষ্ঠীর দেশটিতে শতকরা হিসাবে সেটি একভাগেরও কম। আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে পাঁচ কোটি মানুষকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা দেশটির।

রাশিয়া: ট্রায়াল শেষের আগেই বিশ্বে সবার আগে নিজেদের উদ্ভাবিত টিকার অনুমোদন দিয়ে আলোচনায় আসে রাশিয়া। ৫ জানুয়ারির ঘোষণা অনুযায়ী দেশটি এরই মধ্যে ১০ লাখ মানুষকে স্পুটনিক ফাইভ নামের সেই টিকা দিয়েছে, যা মোট জনগোষ্ঠীর এক ভাগের কম।

জার্মানি: ২৭ ডিসেম্বর থেকে ইউরোপের দেশগুলো একজোটে বায়োনটেক-ফাইজারের টিকাদান কার্যক্রম শুরু করে। তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মানুষকে টিকার আওতায় আনতে পেরেছে জার্মানি। পাঁচ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশটিতে তিন লাখ ৬৭ হাজারেরও বেশি মানুষ টিকা পেয়েছেন। জনসংখ্যার হিসাবে এটি এক ভাগের প্রায় অর্ধেক।

ইটালি: মোট সংখ্যায় পিছিয়ে থাকলেও জনসংখ্যার শতকরা হিসাবে জার্মানির চেয়ে ইটালি কিছুটা এগিয়ে। করো'নায় ইউরোপে সবচেয়ে বেশি ভোগা দেশটিতে এখন পর্যন্ত তিন লাখ সাত হাজার ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে, যা মোট জনগোষ্ঠীর দশমিক পাঁচ-এক ভাগ।

কানাডা: ১৬ ডিসেম্বর থেকে টিকা দেওয়া শুরু করে কানাডা। এক লাখ ৬৩ হাজার মানুষ এখন পর্যন্ত সেখানে করো'নার প্রতিষেধক পেয়েছেন, যা জনসংখ্যার দশমিক চার-তিন ভাগ।

স্পেন: ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত স্পেনে এক ৩৯ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন বিতরণ করা হয়েছে, যদিও জনসংখ্যার শতকরা হিসেবে তা উল্লেখযোগ্য নয়।

এদিকে ইউরোপের সব দেশেই করো'নার টিকা দেয়া শুরু হয়েছে। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশও তড়িঘড়ি করেই কার্যক্রম শুরু করেছে। লাতিন আ'মেরিকার দেশগুলোর মধ্যে আর্জেন্টিনা এরই মধ্যে ৫২ হাজার ডোজ বিতরণ করেছে। তবে এই দৌড়ে এখনও যোগ দিতে পারেনি সিংহভাগ উন্নয়নশীল ও কোনো অনুন্নত দেশ। সব মিলিয়ে বিশ্বের জনসংখ্যার তুলনায় মাত্র দশমিক দুই ভাগ টিকা বিতরণ করা হয়েছে।

Back to top button

You cannot copy content of this page