নদীতে ‘নৌ ডা’কাতের’ খপ্পরে অ’ভিনেতা সিয়াম

‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’ এর সেদিন সারারাত শুটিং হয়েছে। ছোটদের শুটিং শেষ হয়েছে ভোর চারটায়। আমি তো বিছানায় যেতে না যেতেই ঘুম। আর সিয়াম ভাইয়া ও বড়দের শেষ হয়েছে ভোর ছয়টায়। শুটিং শেষ করার পর সবাই ঘুমোতে গেছে। হঠাৎ শুনি কতগুলো কণ্ঠ চি’ৎকার করে ডাকছে- সিয়াম ভাইয়া, সিয়াম ভাইয়া!

তাদের চি’ৎকার করে ডা’কা শুনে সবার ঘুম ভেঙ্গে গেছে। তখন সকাল দশটা বাজে। আম্মু ভেবেছে নিশ্চয়ই নৌ-ডা’কাত এসেছে। সারারাত জাগার পর সবাই আধোঘুমে হুড়মুড় করে উঠে পড়েছে।

দরজা খুলে আম্মু বাইরে গেলো আর আমি আম্মুর পিছু পিছু। দেখি ১৪/১৫ জন ছে’লে খালি গায়ে ভেজা শরীরে চি’ৎকার করে সিয়াম ভাইয়াকে ডাকছে। রাতে কখনও লঞ্চ চালানো হতো না। নিরাপদ কোনো এক জায়গায় থামিয়ে রাখা হতো। তবে সেটা নদীর পার হতে বেশ খানিকটা দূরে নদীর ভিতরের দিকে। পাশেই একটি গ্রাম থেকে ছে’লেগুলো নদী সাঁতরে এসেছিল শুধু একনজর সিয়াম ভাইয়াকে দেখবে বলে।

আমি অ’বাক হয়ে ভাবছি ওরা কী'’ভাবে জানলো এ লঞ্চে শুটিং হচ্ছে এবং এখানে সিয়াম ভাইয়াও আছে! যাই হোক, তুরান আংকেল, পরিচালক জুয়েল আংকেলসহ জাহাজের লোকজন তাদের বোঝানোর চেষ্টা করল যে, সারারাত শুটিং করে সিয়াম ভাইয়া মাত্রই ঘুমাতে গেছে। তারা যেন পরে আসে।

অ’ভিনেতা সিয়ামের সঙ্গে শি’শুশিল্পীরা ও নদী সাঁতরানো ছে’লেরাঅ’ভিনেতা সিয়ামের সঙ্গে শি’শুশিল্পীরা ও নদী সাঁতরানো ছে’লেরাকিন্তু ছে’লেগুলো দেখছি একেবারেই নাছোড়বান্দা! তারা কথা দিল, সিয়াম ভাইয়াকে তারা শুধু একনজর দেখেই একটুও অ’পেক্ষা এবং বির’ক্ত না করে চলে যাবে।

তারা বলল, এ নদীতে কুমির আছে তবুও সেই ভ’য় উপেক্ষা করে এসেছে তাদের প্রিয় সিয়াম ভাইয়াকে একনজর দেখতে। এদিকে এতো হট্টগোল শুনে ইতোমধ্য সিয়াম ভাইয়ারও ঘুম ভেঙ্গে গেছে। সিয়াম ভাইয়া সবার সামনে উপস্থিত।

জাহাজে আমাদের সবাই প্রস্তুত যাতে কোন অ’প্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। তবে যেই কথা সেই কাজ। সিয়াম ভাইয়া সামনে আসার পরপরই ছে’লেগুলো একসঙ্গে নদীতে লাফ দিয়ে তীরের দিকে সাঁতরাতে থাকলো। একটি ছে’লের লাফ দিতে একটু দেরি হলো। এবার সিয়াম ভাইয়ার পালা। সিয়াম ভাইয়া অবশিষ্ট ভেজা শরীরের ছে’লেটিকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। তারপর সেই ছে’লেটিও কথামতো এক ঝাপ দিল নদীতে আর সাঁতরে চলে গেলো তার গন্তব্যের দিকে।

দৃশ্যটি ছিল দেখার মতো! এ যেন সিনেমা’র ভিতর আর এক সিনেমা। দৃশ্যটি যেন সবার ক্লান্তি ভুলিয়ে দিল। আসলেই সিয়াম ভাইয়া এমনই একজন মানুষ যিনি তার ভক্তদের ভালোবাসা পাওয়ার সত্যিই যোগ্য। তার কাজ এবং মানুষের প্রতি তার মনোযোগ তাকে মানুষের ভালোবাসা এবং কাজের ম’র্যাদা পাওয়ার এতোটাই যোগ্য বানিয়েছে।

এ ঘটনাটি আমি কখনও ভুলতে পারবো না। সিয়াম ভাইয়া আমাদের ছোটদের এবং বড়দের উভ’য়ের বন্ধু হয়ে যান। এটা তার অনেক বড় একটা গুণ। অবসরের বেশিরভাগ সময় কা’টাতেন আমাদের ছোটদের খেলার সঙ্গী হয়ে। সিয়াম ভাইয়া, আম’রা সবাই তোমাকে অনেক বেশি ভালোবাসি। তুমি আরও অনেক বড় হও তোমা’র কাজে ও গুণে। শুভ কামনা। ভালো থেকো সবসময়।

Back to top button

You cannot copy content of this page